চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়া এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলে। এতে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। ৮ ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এখানেও বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ২৬ শে মার্চ থেকে ৩০ শে মে পর্যন্ত টানা সাধারণ ছুটির ৩১শে মে
বাংলাদেশের অঘোষিত লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়। শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়
গ্ণপরিবহন, রেল, নৌ-পথ সহ বেসামরিক বিমান। চলমান পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের
মধ্যে বন্ধন অটুট রাখা যেন খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্বামী- স্ত্রীর
সম্পর্ক। গবেষণায় প্রমাণিত, চলমান পরিস্থিতিতে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা অনেকাংশে বেড়ে
চলেছে। তাই পরিবারের সদস্যদের মাঝে সুস্থ সম্পর্ক আমাদের মনোবলকে রাখবে আরো দৃঢ়।
পরিবারে
সুসম্পর্ক কিংবা বন্ধন অটুট রাখার জন্য পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকেই সচেষ্ট ভূমিকা
পালন করতে হবে। প্রবাদে আছে দশের লাঠি একের বোঝা।
·
প্রতিদিন পরিবারের ছোট- বড় সকলে
একসাথে নামাজ কিংবা ধর্মীয় চর্চায় মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।
·
যেহেতু চলমান পরিস্থিতিতে অযথা
বাইরে বের হওয়াটা রিস্কি তাই প্রতিদিন নিয়ম করে পরিবারের সকলে ছাদে কিংবা বাড়ির
আঙিনায় কিছু সময় হাঁটা- হাটি করা যেতে পারে।
·
সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার,
রাতের খাবারের টেবিলে সকলে একসাথে বসা এবং সকলে মন-মান্সিকিতা ও শারিরিক সুস্থতার
খোজ খবর নেওয়া।
·
স্মার্টফোনে সময় কম দিয়ে সদস্যরা
সকলে মিলে গল্প করা যেতে পারে।
·
সকলে কিছুটা সময় নিয়ম করে একসাথে
বসে কোন বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান দেখা যেতে পারে।
·
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভিন্ন বিষয়
নিয়ে মনোমালিন্য হতেই পারে তাই বলে ঝগড়া করতে হবে এমনটি নয়। যখন একজন রেগে যাবে
কিংবা কিছু বলতে চাইবে অন্যজনের উচিত ধৈর্য্য ধরে প্রথমে শোনা।
·
বাচ্চাদের শাসন করার সময় বাবা ও মা
উভয়ই একসাথে উত্তেজিত হওয়া চলবে না। বাবা শাসন করার সমইয় মাকে উচিত চুপ করে থাকা।
আবার মা শাসন করার সমইয় বাবাকে উচিত চুপ করে থাকা। এতে করে বাচ্চা কখনো নিজেকে একা
মনে করবে না কিংবা ভরসা খুজে পাবে পরিবারেই।
·
পরিবারের বয়স্কদের খোজ খবর রাখতে
হবে।
·
অতি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে বাসায়
ফিরে এসেই গোসল করে নিতে হবে।
·
পরিবারের সকলের সহযোগিতাকে কাজে
লাগিয়ে আপনার পুরনো ধুমপানের অভ্যেস ত্যাগ করতে পারেন।
·
যেহেতু এই পরিস্থিতিতে বাসার কাজে
সহযোগিতা করার লোক নেই তাই সকলের মিলে একসাথে আমাদের মা, বোন কিংবা স্ত্রী কাজে
সহযোগিতা করতে পারি।
·
কিছুটা সময় পরিবারের সদস্যদের
শারিরিক চর্চার মনযোগ দেওয়া যেতে পারে।
·
নিয়মিত দূরে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের
খোজ খবর নেওয়া যেতে পারে।
এছাড়া
নিজেদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য ভিটামিন ডি, ই, সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
Comments
Post a Comment